তুরাগে এই পারে বাদশাহ্, ঐপারে ফকির

0
556

মাহফুজুল আলম খোকনঃ প্রচলিত প্রবাদে আছে,নদীর এপার ভাঙ্গে ঐপাড় গড়ে এইতো নদীর খেলা, সকাল বেলার বাদশা রে তুই ফকির সন্ধা বেলা, কিন্তু এই প্রবাদের হাল ভেঙ্গে নতুন প্রবাদের জন্ম দিল রাজধানীর তুরাগের ফুলবাড়িয়া এলাকার এক ঘটনা। সড়কের এক পারে বাদশাহ্ অন্ন পাড়ে ফকির এটাই এই এলাকার নিত্য বিনোদনের খোরাক। তুরাগের ফুলবাড়িয়া তিন রাস্তার মোড়ে বায়ে বাদশাহ্ ও রাস্তার বিপরিতে ডানে ফকিরের চায়ের দোকান।

শেরপুর জেলার নবীনগর এর স্থায়ী বাসিন্ধা সামছুল হকের পুত্র মোঃ বাদশাহ্ মিয়া (৩৭) গত ১২ বছর আগে জিবিকার তাগিদে ঢাকায় এসে প্রথমে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার চলাফেরায় কখনই মমনে হতোনা সে রিক্সা চালক। তখন কোউ একজন তাকে নিয়ে গান বাধেন,বাদশা মিয়া নামে বাদশাহ আসলে সে চালায় রিক্সা এই গানটি,তখন বাদশা তার ভাগ্য বদলাতে স্থান করে নেন ফুলবাড়িয়া বাজারের সড়কের পাশে একটি টং বসিয়ে চায়ের দোকানের। বাদশা মিয়া বৃত্তবান না হলেও তার চলন বলন ও আচার আচরনে রয়েছে তার বাদশাহী ভাব। সেই থেকে আজঅবধি লোকে ফুলবাড়িয়া বাদশার দোকান নামেই চেনেন।

অন্য দিকে গত বছর আট নয় আগে বাদশার গ্রামের আরেক ব্যক্তি মৃতঃ নফর উদ্দিনের ছেলে,সাদেকুল ইসলাম (৪০) সেও জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসে বাদশার দোকানের বিপরিতে রাস্তার পাশের খালি জায়গায় পলিথিনের বেড়া দিয়ে শুরু করেন চা পানের দোকান। খুবি অল্প পুজিতে খোলা মেলা দোকান দেয়ায় এলাকার মানুষ এটাকে ফকিরের দোকান বলে ডাকতে আরম্ভ করেন। সময়ের বিবর্তনে এলাকার মানুষ এখন দোকান দুইটাকে এই নামেই চেনেন। রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে বসে মানুষ যতটানা সাচ্ছন্দ বোধ করেন তার চেয়ে বেশী আন্দপান দোকান দুইটাতে আড্ডা মেরে। প্রতিদিন ভোর পাঁচটা থেকে শুরু করে দোকান দুটো চলে গভির রাত অভধি। বাদশাহ বর্তমানে তুরাগের ফুলবাড়িয়া এলাকার বিল্লাল হাজ্বীর বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকেন। আর সাদেকুল ইসলাম ফকির, তিনি ফুলবাড়িয়ার আশকর আলী হাজ্বীর বাড়িতে স্বপরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here