তাবলিগ জামাতের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ শতাধিক, (ভিডিওসহ)

0
419

মাহফুজুল আলম খোকনঃ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান এলাকায় তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও পাঁচ শতাধিক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্যাহ জেনারেল হসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কমর উদ্দিন জানান, এখানে দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত অবস্থায় এসেছেন। তাদের মধ্যে মুমূর্ষ অবস্থায় ১৮ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম ইসমাইল মন্ডল (৭০)। তিনি মুন্সীগঞ্জের মিলকিপাড়ার মৃত খলিল মন্ডলের ছেলে।

ইজতেমা সূত্র এবং স্থানীয়রা জানায়, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা সা’দ গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন মুসল্লিরা। জোড় ইজতেমা উপলক্ষে মাওলানা জুবায়ের গ্রুপের তাবলিগ জামাতের মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিল। শনিবার সকাল থেকেই সাদ গ্রুপের অনুসারীরা ইজতেমা ময়দান এলাকায় আসতে শুরু করে এবং ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরে সাদ গ্রুপের মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠের চারপাশ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পশ্চিম লেনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে সাদ গ্রুপের মুসল্লিরা জুবায়ের গ্রুপের মুসল্লিদের উপর হামলা চালায়। এতে প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় আহত মুসল্লিদের টঙ্গী হাসপাতালে আনা হয়। সেখান থেকে গুরুত্বর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মাওলানা জুবায়েরের একজন অনুসারী মো. শাওন দাবি করেন, মাওলানা সাদের অনুসারীরা লাঠিসোঁটার পাশাপাশি রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ হামলা চালান। লাঠির আঘাতে তাঁর হাত কেটে গেছে। তিনি জানান, রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ভূঁইয়া কালেকশন নামে তাঁর দোকান রয়েছে। তিনি গতকাল এখানে এসে যোগ দেন।

এই দুই পক্ষের বিরোধিতার কারণে আসছে বছরের বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত ঘোষণা করে সরকার। ১৫ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুই পক্ষ ছাড়াও পুলিশের আইজি, ধর্মসচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী জানুয়ারি মাসে বিশ্ব ইজতেমা হওয়ার কথা ছিল। প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারের ওই ঘোষণার পর থেকে সময়ে–সময়ে দুই পক্ষ জায়গায় জায়গায় অবস্থান নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। সর্বশেষ শনিবার ভোর থেকে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম জানান, ইজতেমার ময়দানের ভেতর ও প্রধান প্রবেশপথগুলো মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা দখল করে আছেন। অন্যদিকে, মাওলানা সাদের অনুসারীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আবদুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে আশুলিয়ার দিকে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। কয়েক হাজার মুসল্লি সড়কে অবস্থান নেয়ায় রাস্তা সরু হয়ে যান চলাচল করছে ধীরগতিতে। এতে সেখানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইজতেমার মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দর চত্বরে ফুটওভার ব্রিজের কাছে এখনো একটি পক্ষ অবস্থান নিয়ে আছে। জানা গেছে, তারা মাওলানা জুবায়েরের অনুসারী। ঢাকা থেকে মাওলানা সাদের অনুসারীরা যেন টঙ্গীতে গিয়ে তাদের পক্ষের মুসল্লিদের সঙ্গে যোগ দিতে না পারেন, সে কারণে তারা প্রতিটি যানবাহন থামিয়ে দেখেন। যাত্রীদের মধ্যে মুসল্লি কেউ থাকলে তাকে নামিয়ে দেন। ফলে সেখান থেকে টঙ্গীগামী যানবাহন একটি একটি করে চলাচল শুরু করে। বাস থেকে নামিয়ে দেয়া মুসল্লিদের অনেকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন।

উল্লেখ্য, তাবলিগের মাঠ দখলমুক্ত করার দাবিতে ২৭ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাদপন্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তাবলিগের অপর পক্ষটি উগ্রপন্থায় বিশ্বাসী। তারা কোমলমতি মাদরাসাছাত্রদের হাতে লাঠিসোঁটা দিয়ে ইজতেমা মাঠ পাহারায় বসিয়ে দিয়েছে। এর আগেও মাদরাসার এসব শিশুকে মারকাজ মসজিদে হামলা, দখল, হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অপকর্মে ব্যবহার করা হয়েছে। এ অবস্থায় তারা (সাদপন্থী) যেন ৩০ নভেম্বর শুরু হওয়া পাঁচ দিনের জোড় ও ১১ জানুয়ারি থেকে তিন দিনের ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে করতে পারেন, সে জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here