জরাজির্ন ৫৩ নং ওয়ার্ডে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন প্রার্থীরা,লড়াই হবে বাঘে সিংহে! বারছে হাপানি ও হৃদরোগের প্রকোপ

0
178

মাহফুজুল আলম খোকনঃ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫৩ নং ওয়ার্ডের প্রত্তেকটি সড়কের বেহাল অবস্থা। শীতে ধুলোবালি আর বর্ষায় কাদামাটি ও ভাঙ্গা রাস্তায় চলাচল করার কারনে এলাকাটিতে প্রতিনিয়ত বারছে হৃদরোগ ও হাপানি রোগের প্রকোপ। আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের নানা রকম স্বপ্ন দেখাচ্ছেন প্রার্থীরা। এই ওয়ার্ডে নির্বাচনে লড়াই হবে বাঘে সিংহে বলে দাবি এলাকা বাসির।

সাবেক হরিরামপুর ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডকে ভেঙ্গে গত বছর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এনে ডিএনসিরি ৫৩ নং ওয়ার্ড বনানো হয়। ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারীতে এই ওয়ার্ডে উপ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসিন দল সমর্থিত একজনকে কাউন্সিলর বানিয়ে ছিলেন এলাকা বাসি। তিনি ক্ষমতায় আসার এক বছরে এক টাকার উন্নয়নও করা হয়নি এলাকাটির। শুধু তাই নয় বর্তমান সরকারের ১২ বছরেও এই এলাকার তেমন কোন উন্নয়ন চিত্র চোখে পরেনি বলে দাবি স্থানীয়দের। ভাঙ্গা রাস্তা ঘাট আর পয়নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টিতেই সম্পুর্ণ জলাবদ্ধ হয়ে পরেন এখানকার মানুষ। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার কারনে দিন দিন বেড়েই চলেছে মশা মাছির উপদ্রুপ। রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গ্যাসের সমস্যা। এই এলাকাটিতে চলাচলের এক মাত্র বাহন হচ্ছে ব্যাটারি চালিত নিষিদ্ধ অটোরিক্সা। ভাঙ্গা রাস্তায় এসব রিক্সা দিয়ে চলার কারনে প্রতিনিয়ত এখানকার মানুষের মধ্যে দেখা দিচ্ছে হৃদরোগের প্রকোপ,আর শীতকালে ধুলাবালির কারনে দেখা দিচ্ছে শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগ। ময়লা আবর্জনা থেকে সৃষ্টি হচ্ছে ভাইরাস জনিত মশা মাছির। এলাকাটিতে ভোটার সংখা ২৮৭০০ হলেও এখানে বসবাস করেন প্রায় আড়াইলাখ মানুষ। সিটি কর্পোরেশনে আওতায় থেকেও এখানকার মানুষজন পাচ্ছেন না সিটির কোন রকম নাগরিক সুবিধা।

আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ইলেকশনকে সামনে রেখে হাজারো সমস্যায় জর্জরিত এলাকাটির সকল সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনে দাড়িয়েছেন ক্ষমতাসিন দল আওয়ামী’লীগ, বিএনপি এবং আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ মোট ৩ জন। সকলেই ভোটারদের দিচ্ছেন আধুনিক ওয়ার্ড গড়ার প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী’লীগ থেকে দলীয় সমর্থন নিয়ে লাটিম প্রতিকে নির্বাচন করছেন এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ও ঘুড়ি প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপি মনোনিত প্রার্থী সাবেক ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাজ্বী মোস্তফা জামান এবং শতন্ত্র থেকে ঝুড়ি মার্কা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রর্থী ও সাবেক মেম্বার হাজ্বী কফিল উদ্দিন।

নির্বাচিত হওয়ার ১ বছরেও কোন রকম উন্নয়ন কর্মকান্ড দেখাতে না পারায় কাউন্সিলর নাসির উদ্দিনের উপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন অনেকেই। আবার নাসির উদ্দিন ও কফিল উদ্দিনের বাড়ি পাশাপাশি থাকায় এবার ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে। তবে এবার নির্বাচিত হলে আগামী ৬ মাসের মধ্যে ওয়ার্ডের সকল সমস্যার সমাধান করবেন, এলাকা বাসিকে এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন।

এদিকে আওয়ামী’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কফিল উদ্দিন গত বছর উপ নির্বাচনে মনোনায়ন কিনে ছিলেন, পরে দল থেকে নাসির উদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়ার পর গরু জবাই করে এলাকা বাসিকে খাইয়ে ঘোষনার মাধ্যমে নাসির উদ্দিনের হয়ে ইলেকশন করে ছিলেন তিনি। শর্ত ছিলো পরবর্তি নির্বাচনে তাকে সমর্থন করবেন। কিন্তু এবারও দল থেকে নাসির উদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়ায় শতন্ত্র থেকেই নির্বাচন করছেন কফিল উদ্দিন। এলাকায় হাজ্বী কফিল উদ্দিন এর বেপক জন প্রিয়তা রয়েছে বলেও জানা গেছে। সে দিক থেকে জয়ের সম্ভাবনা কফিল উদ্দিনেরই বেশী বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসি।

অন্য দিকে দীর্ঘদিন জনবিচ্ছিন্ন থাকার পর প্রকাশ্যে নির্বাচনি প্রচারনা চালাচ্ছেন বিএনপি মনোনিত প্রার্থী হাজ্বী মোস্তফা জামান,এই ওয়ার্ডে বিএনপির প্রচুর সমর্থক রয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক বিএনপি নেতা। তাছাড়া ২০০৩ সালে সাবেক ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ছিলেন তিনি। ২০০৩ থেকে ৮ সাল অবধি এই ওয়ার্ডের ৩০ টি রাস্তা উনার হাতেই করা। উনার সময়ে করা উন্নয়নের সুফল এলাকাবাসি ভোগ করেছেন ১১ সাল পর্যন্ত। ১১ পরবর্তী গত ৯ বছরেও এই এলাকার তেমন কোন উন্নয়ন করা হয়নি বলে হতাশ এলাকা বাসির মনে আশার আলো দেখাচ্ছেন ধনাট্ট এই বিএনপি নেতা ।

একদিকে পরিবর্তনে বিশ্বাসি সাধারন মানুষের মনে অনেকটাই জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। আওয়ামী’লীগের ভোট দুই ভাগে ভাগ হলে বিএনপির একক প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন বিষয়ে হাজ্বী মোস্তফা জামান বলেন,ইতি পূর্বে আমার প্রচার মাইক ভাংচুড় করা হয়েছে,শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠ ভোট হলে আমি বিজয়ী হবো বলে আশাবাদি, কোন প্রতিশ্রুতি নয়, আমি নির্বাচিত হলে আমার ওয়ার্ডের প্রত্তেক নাগরিকের শতভাগ নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো,সরকারি ভাবে কোন বরাদ্ধ না পেলে সিটি কর্পোরেশনের আয় থেকে হলেও আমি আমার কথা রাখবো ইনশা আল্লাহ,এটাই আমার প্রতিজ্ঞা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here