কৃষি অফিসের সহযোগীতা ছাড়াই সবজি চাষে স্বাবলম্বী ঝালকাঠির আব্দুল হক

0
58

গাজী গিয়াস উদ্দিন বশির,ঝালকাঠি:: সবজি চাষে স্বাবলম্বী ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান গ্রামের চাষিরা। চলতি মৌসুমে এ এলাকায় বিভিন্ন জাতের সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প শোনালেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিড়ি ইউনিয়নের গাবখান গ্রামের আব্দুল হক তালুকদার।

সরজমিনে গেলে চাষি আব্দুল হক তালুকদার জানান, বেকারত্ব জীবন ও দরিদ্র বাবার সংসারের ঘানি টেনে পড়া লেখা করতে পারিনি। তাই সবজি চাষে মনযোগী হয় । প্রথমে অন্য লোকের জমিতে কাজ করতাম। পরে ২ বিঘা জমি নিয়ে পরীক্ষামূলক ভাবে সবজির চাষ শুরু করি।

ঝালকাঠি বাজারে সবজির চাহিদা ভাল থাকায় প্রথমে ফুলকপি,বাঁধাকপি, ম্যাজিক সীম,শশা, পেপে, জালিকুমড়া, মুলা,লাল শাক,বেন্ডি, টমেটো,লাউ ও খিরই চাষ করি। এ সব সবজি বাজারে বিক্রি করে বেশ লাভ হতে থাকে।

১০ হাজার টাকা খরচ করে এক মৌসুমে প্রায় অর্ধলক্ষাধীক টাকার সবজি বিক্রি করি। এখন সারা বছরই তার জমিতে বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষ হচ্ছে। সবজি চাষ করে বর্তমানে তার সংসার চলে। বর্তমানে সে তার জমিতে শীতকালিন সবজি, শষা ও খিরই চাষে ব্যাস্তসময় পার করছে। এলাকাবাসির মতে হক একজন আদর্শ সবজি চাষি।

তার দেখা দেখিতে এলাকায় অনেকেই সবজি চাষে ঝুকে পড়েছে। পাইকারী ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে সবজি কিনে গ্রাম গঞ্জের ও শহরের বাজারে বিক্রি করেন। তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর প্রায় এক লক্ষ টাকা বেচা কেনা করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি আরো জানান, সবজি চাষে সহযোগিতা করেন তার কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা। চাষি আব্দুল হক তালুকদার আরো জানান, ২৫ বছর ধরে সবজি চাষে নিয়োজিত থাকলেও ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে একবারও বিনা মূল্যে সার ও কীটনাক ঔষধ সহোগীতা পায়নি বা দেওয়া হয়নি। ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বর্তমানে সুখি জিবন যাপন করছেন আব্দুল হক তালুকদার। তিনি সরকারী অনুদান সহ কৃষি খামার বাড়ির সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেছেন। এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানরা কি কোন সময় আপনার নাম দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমার কোন চেয়ারম্যান বা মেম্বরের অনুদান দরকার নেই। আল্লাহ আমাকে যেমন রেখেছে তেমই থাকতে চাই। আমার জমিতে ফসল আল্লাহর ইশারায় হয়,আল্লাহর উপর আমার ভরসা আছে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.রিফাত সিকদার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,আসলে আমরা কোথায় কি ফসল হয়েছে সেটা জানিনা। হ্যা জদি কোন ধরনের সমস্যা হয় তাহলে আমাদের কে জানালে আমরা সেই ব্যাপারে ব্যাবস্থা নিতে পারি বা আমাদের প্রত্যেক এলাকা ভিত্তিক কমিটি বা ব্লোগ আছে এদের কে জানালে তারা দেখে আমাদের কে অবহিত করবে। আর আমাদের কৃষি অফিস থেকে কোন কিটনাশক ওষধ দেওয়া হয়না। এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানরা তালিকা দেয় তাদের কে সার দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here