গাজীপুরে ফোর মার্ডার: ৪ বিষয় নিয়ে তদন্তে পুলিশ

0
184

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে মা তিন সন্তানকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় চার বিষয়ে ( ডাকাতির উদ্দেশ্য, জমিজমা, ব্যবসা, পারিবারিক বিরোধ) তদন্ত করছে পুলিশ।

এছাড়া ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সেক্ষেত্রেএকাধিক কারণও সামনে এসেছে। আর তারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা সেজন্য সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্টের জন্যঅপেক্ষা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে কথা হয় গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রাসেলের সঙ্গে।  তিনি বলেন, ‘ডাকাতির উদ্দেশ্য, জমিজমা, ব্যবসা, পারিবারিক বিরোধসহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। পুলিশের সঙ্গেগোয়েন্দারাও কাজ করছে।  তবে এতটুকু প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে নৃসংশ হত্যাকাণ্ড  ভাড়াটে খুনি দিয়ে করাহয়েছে।  সেক্ষেত্রে নেপথ্যে কারো ইন্ধনও আছে।

নিহতের প্রাবাসী স্বামীর সঙ্গেও একাধিকবার কথা হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশের কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তিনি ( কাজল) দীর্ঘদিন মালয়েশিয়া থাকেন।  তবে গত জানুয়ারিতে দেশে আসেন।  কয়েকদিন অবস্থান করার পর তিনি আবারও সে দেশে চলেযান।  তার বা পরিবারের সঙ্গে কারো বিরোধ আছে তা বলতে পারেননি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওপরের কারণগুলোর সঙ্গে আরেকটি কারণ ঘুরেফিরে আসছে।  সেটি হলো ফাতেমা একটি স্কুটিচালাতেন।  পশ্চিমা ধাচে চলাফেরা করতেন।   বিষয়টিতে হয়তো কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারেন। ক্ষুব্ধের বশীভূত হয়েও তাদের হত্যারপরিকল্পনা করতে পারে।  তবে তারা যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। কারণে নমুনা সংগ্রহ করেসিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। তারা রিপোর্ট দিলে এরপরই বিষয়টি পরিস্কার হবে।  কেননা তাদের লাশ অর্ধনগ্ন অবস্থায় পড়েছিল। একই সঙ্গে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইলও জব্দ করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের আগে তারা মোবাইলে কারো সঙ্গেকথা বলেছিল কিনা, অথবা কোনও হুমকি ছিল কিনা সেজন্য কললিস্ট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আবার গাজীপুর জেলায় কে কেভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করে, তাদের বর্তমান অবস্থান কোথায় তাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

এদিকে, আমাদের গাজীপুর প্রতিনি মাহাবুব আলম জানান, ‘শুক্রবার সকালে নিহতের শ্বশুর আবুল হোসেন ঘটনায় বাদি হয়েশ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন।  তবে মামলায় কাউকে আসামি করেননি। ইতোমধ্যে মামলাটি একজন এসআইকে বুঝিয়েদেওয়া হয়েছে বলে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিয়াকত আলী নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের স্বজন নাঈম ইসলাম জানান, ‘১৬ বছর মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন শেষে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ফাতেমাকে বিয়েকরেন চাচা কাজল।  দেশে তিনি কাপড়ের ব্যবসাও শুরু করেন।  তবে আবারও মালয়েশিয়ায় চলে যান।  কিন্তু তাদের সঙ্গে কারোশত্রু তা আছে ফাতেমা বা চাচা কোনও দিন বলেননি।

প্রসঙ্গ, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার জৈনাবাজার এলাকায় আবদার গ্রামে গলা কেটে মালয়েশিয়া প্রবাসীকাজলের স্ত্রী ফাতেমা (৩৫), তার বড় মেয়ে নুরা ১৬), ছোট মেয়ে হাওরিন (১৪) প্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিলকে () হত্যা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here