মানবতার আরেক নাম গৃহিনি সালমা।

0
472

মাহফুজুল আলম খোকন: মহামারি করোনা আতঙ্কে গত প্রায় দেড় মাস যাবত লকডাউন হয়ে আছে পুরোদেশ, পাড়া মহল্লাসহ প্রতিটা হাট বাজার চায়ের দোকান গুলো যখন ভুতুড়ে বাড়ি। মহল্লাবাসিকে বিরক্ত করা সেই বখাটে ছেলেটাও যখন গৃহবন্ধি মহামারি করোনার ভয়ে।ক্ষুধার জালায় নিভ্রিত কান্নার অশ্রুজলে শিক্ত অসহায় মানুষ দিশেহারা, মহামারির ভয়কেও হারমানিয়েছে ক্ষুধার জ্বালা। অতিষ্ঠ হয়ে ঘড় থেকে বেরিয়ে পড়ছেন খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ গুলো,এমন সময় মৃত্যুর ভয়কে উপেক্ষা করে স্বামী সন্তান রেখে মানবতার টানে খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন গৃহিনি সালমা আক্তার।

সু-সময়ে স্বামীর দেয়া উপহার আর সংসারের খরচ থেকে বাচানো টাকায় কেনা উপহার সামগ্রী নিয়ে গরিব দুখি: অসহায় মানুষেরপাশে দাড়িয়েছেন তিনি। লকডাউনের শুরুর দিকে নিজহাতে রান্না করা খাবার পৌছে দিতেন রাস্তায় অবস্থান করা অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে।

উনার প্রতিদিনের রোটিন ছিলো সাংসারিক কাজ সেরে অসহায় মানুষদের জন্য খাবার তৈরি করে তা মানুষের  মধ্যে বিতরন করা।মহত এই কাজে প্রথম দিকে তাকে সহায়তা করতেন নিজের সন্তানেরা ধিরে ধিরে সময় খারাপ হতেলাগলো,বাড়তে থাকলো করোনার আতঙ্ক, বাড়তে থাকলো খাদ্যের চাহিদাও, দেশজুড়ে সরকারের দেয়া ত্রান পাচ্ছিলেন না সবাই, ত্রানের জন্য চারদিকে হাহাকার,এমন সময় স্বামীর দেয়া উপহার সোনার গয়না বিক্রি করে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫৩ নং ওয়ার্ড , উনার সাথে সেচ্ছা সেবক হিসেবে যোগ দিলেন,এলাকার ১০ /১২ জন যুবক। কিনে আনলেল, চাল,ডাল,তেল,নুন, পেয়াজ, রসুন, আলু, আটা শিশুদের জন্য গুঁড়োদুধ।

শুরহলো প্যাকেট প্রস্তুত, প্রতিটা প্যাকেটে দেয়া হলো চার জনের পরিবারের জন্য এক সপ্তাহের খাবার. সাথে ছিলো কাপড়কাঁচা গুসলের জন্য টি সাবান হ্যান্ড স্যানিটাইজার। প্রতিদিন যাচ্ছেন ৫৩ নং ওয়ার্ডে বসবাসরত নিন্ম আয়ের মানুষের বাড়ি বাড়ি,

নিজ হাতে পৌছে দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় খাদ্য নগদ অর্থ।আর এভাবেই চলছে তার প্রতি দিনের রোটিন।প্রতিদিন তিনি এই এলাকার দেড় থেকে ২শ পরিবারের মধ্যে এই উপহার সামর্গী পৌছে দিচ্ছেন মানুষের ঘড়ে ঘড়ে।গৃহিনি সালমা আক্তার সংসার জীবনে চার সন্তানের জননী সাবেক হরিরামপুর ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাজ্বী মো: মোস্তফা জামানের ইস্ত্রী।

 

হাজ্বী মোস্তফা জামান সদ্য সমাপ্ত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৫৩ নং ওয়ার্ডে বিএনপি থেকে মনোনীত হয়ে নির্বাচন করে ছিলেন। গৃহিনি সালমা আক্তারের সাথে সর্বদা সেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন,

দেলোয়ার হোসেন, রিপন হাসান খন্দকার, হান্নান হোসেন, জহিরুল ইসলাম, ইন্জিনিয়ার ওবায়দুল, মো.হাফিজ, সিদ্দিকুল ইসলাম, সৌরভ,ইমন প্রমুখ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গৃহিনি সালমা আক্তার বলেন,কোন সার্থ নয় বিবেকের তাড়নায় আজ আমি সাধারন মানুষেরপাশে এসে দাড়িয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর দেয়া গহনা শুধু আমার মুখে হাসি ফুটাতে পারে, কিন্তু আমার দেয়া উপহার হাজারো মুখের হাসি ফুটায়, আমার অনুরোধ সমাজে অনেক বিত্তবান ব্যক্তিরা আছেন যাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহযোগীতাই পারে আমাদের এই মহামারি দারিদ্রতা থেকে বাঁচাতে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here