যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাপেক্ষা উত্তেজনাপূর্ণ নির্বাচনে ভোট শুরু: কে যাচ্ছেন হোয়াইট হাউসে

0
39

ডেস্ক রিপোর্ট: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাপেক্ষা উত্তেজনাপূর্ণ প্রসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ছয়টা থেকে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং ভার্জিনিয়া প্রদেশে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত একটি দিনের সূচনা হয়েছে।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে আরও চার বছর ক্ষমতায় থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন দেশটিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মার্কিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯৭০ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর যেকোনও সময়ের তুলনায় এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ব্যাপক বিভাজন এবং ক্রোধ দেখা যাচ্ছে। উত্তেজনা উসকে দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী ফলাফল বিতর্কিত করতে পারেন বলেও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

দেশটির এই নির্বাচনের আগে পর্যন্ত সব জনমত জরিপে ৭৭ বছর বয়সী জো বাইডেনই এগিয়ে রয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকার আত্মার পুনরুদ্ধার দরকার। ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া করোনাভাইরাস মহামারী সামলাতে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন বাইডেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রের আত্মার লড়াই উল্লেখ করে জো বাইডেন বলেন, আমার একটি অনুভূতি আছে যে, আমরা আগামীকালের বিশাল জয়ের জন্য একসঙ্গে এসেছি। ব্যাগ গুছিয়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার সময় এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

ফরাসী বার্তাসংস্থা এএফপি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট ও মাইনে স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। কিন্তু দেশটিতে ভোটকেন্দ্র সবার আগে ভোটারদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় মধ্যরাতে নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডিক্সভিল নচ ও মিলফিল্ডে। ঐতিহ্যগতভাবে ১২ জন বাসিন্দার কানাডা সীমান্তের ডিক্সভিল নচে প্রথম ভোটগ্রহণ শুরু হয় মধ্যরাতে। এই শহরের দুটি ভোট কেন্দ্রের একটিতে জো বাইডেন এবং অন্যটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন। ১৯৬০ সাল থেকে শহরটির বাসিন্দারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবার আগে ভোট দিয়ে আসছেন।

এবারের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা দেখা দিতে পারে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সহিংসতার আশঙ্কায় ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলিনাসহ বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে দোকান-পাট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এ দুই প্রার্থী প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে দেশটির ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করেছেন। দেশটির মোট ২৪ কোটি ভোটারের মধ্যে এবারের নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন প্রায় ১৯ কোটি। তবে ইতোমধ্যে দশ কোটিরও বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউএস ইলেকশন প্রজেক্টস।

এদিকে কে হচ্ছেন ৪৬তম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডনেও শেষ মুহুর্তে প্রার্থীদের দ্বারে দ্বারে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে ভোটে এবং ইলেক্টরালে যদি বাইডেন এগিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়বেন কিনা তা নিয়ে চলেছে জল্পনা-কল্পনা।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন মাকির্নিরা। মূলত নির্বাচনের ফল এবং নির্বাচন পরবর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্লোরিডা, শিকাগো, ওহাইও, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসিসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছেন রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। এ অবস্থায় এক অনিশ্চয়তার দিকে এগুচ্ছো যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ভোট টানতে ট্রাম্পের সশস্ত্র উগ্র সমর্থক গোষ্ঠী ‘প্রাউড বয়েজ’ ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। গোলমাল করতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বাইডেনের সমর্থকরাও। সাদা হোয়াইট হাউজ দখলের লড়াইয়ে দু’পক্ষের সমর্থকরা ইতিমধ্যে গতকাল রাত থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের দেয়ালে দেয়ালে বিভিন্ন পোস্টার ছেপে দিয়েছেন অনেকে। এখন দেশজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘাতের আশঙ্কায় ম্যাসাচুসেটস রাজ্য ন্যাশনাল গার্ডের ১ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে প্রশাসন। শুধু ম্যাসাচুসেটস নয় যুক্তরাষ্ট্রের স্পর্শকাতর রাজগুলোতে বিপুল নিরাপত্তা সদস্য বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটন, ডিসির বরুকিংস ইনস্টিটিউশন থিংক ট্যাঙ্কের সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল বাইম্যান সর্তকবার্তা দিয়ে বলছেন, আমরা জানি না কি হতে যাচ্ছে এই নির্বাচনে। যে কোন কিছুই ঘটতে পারে। বিপদের আভাস পাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই মনে করছেন, নির্বাচনের পর বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়বে যা সংঘর্ষেও রূপ নিতে পারে। আর প্রতি চারজনের মধ্যে একজন বেশ আস্থার সাথেই বলেছেন, নির্বাচনের পর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। তারা বলছেন, ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হেরে গেলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন। কিন্তু আসলেই কি ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়বেন? নির্বাচনে হেরে গেলে সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা ছাড়বেন কিনা, এ বিষয়ে উত্তর দিতে অস্বীকার করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কয়েকবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বলেছেন যে, তিনি নির্বাচনে হেরে গেলে ক্ষমতা ছাড়বেন না। এরপর থেকেই সন্দেহ সৃষ্টি হয় হোয়াইট হাউজ ছাড়ার বিষয়ে। তবে, রিপাবলিকান প্রার্থী বাইডেন কিন্তু বলেছেন, ক্ষমতা না ছাড়লে সেনাবাহিনী তাকে সরিয়ে দিবেন। সংবিধানও তাই বলছে। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ট্রাম্প আগেভাগে নিজেই সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিতে পারেন। এতে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে ঠেলে দিবে।

এদিকে, ইউএস টুডে এবং সাফোক ইউনিভারসিটি যৌথভাবে এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। তাতে দেখা যায়- যুক্তরাষ্ট্রের এক-চতুর্থাংশ ভোটার হিংসার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। সমীক্ষার ফলাফলে বলা হয়েছে-চূড়ান্ত বিজয়ীকে নির্বাচন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কেউ কেউ সামরিক ক্যু’র আশংকা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইডেনের কাছে যদি সামান্য ব্যবধানে হেরে যান তবে ফলাফল প্রত্যাখান করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সব কিছু জানতে নির্বাচনের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here