ক্রসফায়ারের হুমকি: সাবেক ওসিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0
26

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ক্রসফায়ারে হত্যার চেষ্টা ও মাদকের মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মঞ্জুর মুর্শেদ, ১১ পুলিশ সদস্য ও পুলিশের দুই সোর্সের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কামরুল হাসানের আমলী আদালতে এ মামলা করেন ছাগলনাইয়ার পূর্ব পাঠানগড় এলাকার বাসিন্দা মো. গিয়াস উদ্দিন দুলাল।

বাদীপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু জানান, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অন‌্য আসামিরা হলেন—ছাগলনাইয়া থানার সাবেক এসআই মো. শহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন, এএসআই মো. ফিরোজ আলম, মো. মাহবুল আলম সরকার, এসআই মো. খোরশেদ আলম, কনস্টেবল সুকান্ত বড়ুয়া, কনস্টেবল মো. মাঈন উদ্দিন, বর্তমান কনস্টেবল মো. নুরুল আমিন, মো. নুরুল আমিন, মো. সিরাজুল ইসলাম এবং পুলিশের দুই সোর্স ছাগলনাইয়ার এলনা পাথর এলাকার আবুল হোসেনের দুই ছেলে আবুল হাসেম ও আবুল খায়ের ছোটন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বাদী দুলাল পিকআপ ভ‌্যানের চালক ছিলেন। তিনি গত বছরের ১৭ জানুয়ারি পিকআপে মাটি নিয়ে ফেনী সদরের কাজীরবাগে যাচ্ছিলেন। সেদিন আবুল হাসেম ও আবুল খায়ের নামের দুই সোর্সসহ পুলিশ সদস্যরা এসে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন বিকেলে পুলিশ কাজীরবাগ থেকে দুলালকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে ছাগলনাইয়ার পাঠাননগর এলাকায় ব্রাদার্স ব্রিকফিল্ডের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে ওসি মোর্শেদ এসে দুলালের চোখ বেঁধে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে না চাইলে তারা দুলালকে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দেন। এ খবর পেয়ে দুলালের মা ও বোন সেখানে গিয়ে ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এতে রাজি না হয়ে পুলিশ দুলালকে চোখ বাঁধা অবস্থায় মাইক্রোবাসে করে শুভপুর ইউনিয়নের বল্লভপুরে চম্পকনগর রাস্তায় মাথায় একটি জমিতে নিয়ে মাটিতে ফেলে হত্যার চেষ্টা চালায়। এরপর ওসি মোর্শেদ ঘটনাস্থলে থাকা সুকান্ত বড়ুয়া নামের এক পুলিশ সদস্যের শটগান দিয়ে দুলালের ডান পায়ে তিন রাউন্ড গুলি করে। এরপর তারা এলোপাথারি লাথি মেরে দুলালের মৃত্যু নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। এতে দুলাল জ্ঞান হারান। দুলালের মৃত্যু হয়েছে, ভেবে পুলিশ তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেয়। চিকিৎসকরা দুলালের দেহে প্রাণের অস্তিত্ব টের পেয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক‌্যালে পাঠায়। তিন দিন পর অস্ত্রোপাচার করে দুলালের ডান পায়ের নিম্নাংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়।

পরে থানার সাবেক পুলিশ উপ-পরিদর্শক মো. মাহবুবুল আলম সরকার দুলালের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠায়। এ মামলার গত বছরের ২৭ জানুয়ারি দুলালের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এ বছরের ১ অক্টোবর মামলার কাজে ফেনী কোর্টে গেলে পুলিশের সোর্স আবুল হাসেম দুলালকে দেখে বলে, ‘তুই মরে যাসনি? তোকে আবারও ক্রসফায়ারে দেব।’

ওই দুই সোর্স মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন গিয়াস উদ্দিন দুলাল।

সুত্র রাইজিং বিডি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here