back to top

১৯৯৬-এ অস্ত্র গায়েব, ২০২৬-এ রায়: সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার জেল

প্রকাশিত: ০৪ মে, ২০২৬ ০৭:০৯

তিন দশক আগে উদ্ধার করা একটি অস্ত্র গায়েব করে তা ভুয়া কাগজে ‘জমা দেওয়া হয়েছে’ বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই)।

ঘটনার জেরে আগেই তিনি চাকরি হারান। রায়ের সময় তিনি পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ২৫ নভেম্বর নগরের ডবলমুরিং থানার এসআই কামাল পাশা এক আসামির কাছ থেকে একটি এলজি উদ্ধার করেন।

নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্রটি গোয়েন্দা শাখার মালখানায় জমা দেওয়া হয়, যার দায়িত্বে ছিলেন এসআই দেলোয়ার। কিন্তু সেখানেই ঘটে ‘গায়েব’ কাণ্ড। আদালতে অস্ত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা আর জমা পড়েনি।

এর বদলে দেলোয়ার হোসেন দপ্তরে একটি ভুয়া স্মারক তৈরি করে দেখান—অস্ত্রটি নাকি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। পরে যাচাই-বাছাইয়ে সেই স্মারক ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।

ঘটনার পর তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো ২০০৪ সালের ২৬ মে কোতোয়ালি থানায় মামলা করে।

তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে স্পষ্ট বলা হয়, অস্ত্র জমার যে স্মারক দেখানো হয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ জাল।

দীর্ঘসূত্রতার পর ২০১৬ সালের ৫ জুলাই আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে।

ছয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক।

দুদকের পিপি জাহিদুল করিম জানান, আসামি পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

অস্ত্র গায়েব, তারপর ভুয়া কাগজে ধামাচাপা। রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা আলামত নিয়ে এমন কারসাজি যে কত বছর পরেও আইনের মুখোমুখি হতে হয়, এই রায় যেন তারই কঠিন স্মারক।