back to top

‘জনগণই মূল শক্তি, তাদের বাদ দিয়ে জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া অসম্ভব’ — চট্টগ্রামে আমীর খসরু

প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬ ১৯:৫৯

চট্টগ্রাম: বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজনীতি হতে হবে সাধারণ মানুষের জন্য; জনবিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

শনিবার (৩০ মে) বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কাজীর দেউরী মোড়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে দুস্থ, অসহায় ও পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণের উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আবেগঘন স্মরণ অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই অবস্থিত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের কথা স্মরণ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “আমরা আজ এমন একটি স্থানে দাঁড়িয়ে আছি, যার সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এই সার্কিট হাউসেই তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শ ও দর্শনকে মুছে ফেলা যায়নি।”

  • জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

“বিএনপি একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই আমরা একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।”আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

নেতাকর্মীদের প্রতি জনসম্পৃক্ততার বার্তা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া ও সুস্পষ্ট বার্তা দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাঁর আদর্শ ধারণ করে সর্বদা জনগণের পাশে থাকতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যাদের জন্য আমরা রাজনীতি করি, সেই সাধারণ মানুষকে কখনো ভুলে গেলে চলবে না। জনগণই দলের মূল শক্তি। তাদের স্বার্থ, চাহিদা ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মাধ্যমে তা পূরণে সচেষ্ট হতে হবে।” এ সময় তিনি দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুষ্ঠানের সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

‘ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন জিয়াউর রহমান’ অনুষ্ঠানের সভাপতি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে জিয়াউর রহমানকে একজন ‘ক্ষণজন্মা পুরুষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে যেমন অনুপ্রাণিত করেছিল, তেমনি পঁচাত্তর-পরবর্তী ক্রান্তিকালে তিনি দিশেহারা জাতির হাল ধরেছিলেন।”

মেয়র আরও বলেন, শহীদ জিয়ার শাসনামলেই দেশে অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। খাল কাটা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিবিপ্লব এবং পোশাক শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন তিনি।

উপস্থিতি ও কর্মসূচি আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি ও সভাপতি সাধারণ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, শাহ আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটনসহ বিএনপি, এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।