back to top

আড়ালে থেকে সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত পটিয়া উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শামসুল ইসলাম ওরফে ‘সমসু চেয়ারম্যান’

প্রকাশিত: ২৯ জুন, ২০২৬ ২২:৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রেখে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ উঠেছে পটিয়া উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ও কোলাগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম ওরফে ‘সমসু চেয়ারম্যান’-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি প্রকাশ্যে না এলেও নেপথ্যে থেকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সরকারবিরোধী নেপথ্য কর্মকাণ্ড স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শামসুল ইসলাম গা ঢাকা দিলেও বর্তমানে তিনি বেশ সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার অবৈধ উপায়ে অর্জিত বিপুল অর্থ ব্যবহার করে বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করতে মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন। বিশেষ করে, গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে তার বাড়ি-সংলগ্ন চরবাড়ী এলাকায় আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে তার সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়ন ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানে যুবলীগ ক্যাডার এবং একাধিক হত্যা মামলার আসামিসহ সরকারদলীয় প্রভাবশালীরা অংশ নেন, যা এলাকায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

প্রভাব বিস্তারে নতুন কৌশল অভিযোগকারীদের দাবি, ৫ আগস্টের পর নিজের সুরক্ষা এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে শামসুল ইসলাম নতুন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি তার নিকটাত্মীয়দের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের আগে তার পরিবারের কেউ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বর্তমানে তিনি স্থানীয় বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে তাদের ছত্রচ্ছায়ায় বিদ্যুৎ প্রকল্পের পোড়া তেলের ব্যবসা ও সরকারি রাস্তা দখল করে বালুর ব্যবসাসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ব্যবসার লভ্যাংশ উপজেলার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাঝে ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিক ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন শান্তিরহাটে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও শামসুল ইসলামের প্রকাশ্যে বিচরণ এবং নিজ বাড়িতে নিয়মিত রাজনৈতিক বৈঠকের বিষয়টি জনমনে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি প্রতিদিন কোলাগাঁও গ্রামের নিজ বাড়িতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেন, যার মূল লক্ষ্য সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা।

তৃণমূল বিএনপির হতাশা শামসুল ইসলামের এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র হতাশা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ত্যাগী নেতাকর্মীরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে থেকে শামসুল ইসলাম যে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন, তা বর্তমান সরকারের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে শামসুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।