দীর্ঘদিন ধরেই একই কর্মস্থলে (থানায়) কর্মরত রয়েছেন চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম।
নিরপরাধীকে অপরাধী সাজানো, ভুল তথ্যে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধপন্থায় মোটা টাকা উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে বহু আগে থেকেই। ক্ষমতার অপব্যবহারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে টাকা উপার্জনের নেশাটা পুরনো এ পুলিশ কর্মকর্তার।
সম্প্রতি আলোচিত সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা নিহত হওয়ার পর এলাকায় তিনি আরও বেপোরোয়া হয়ে উঠেছেন। ওই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে ফাঁসানোর কথা বলে এলাকার সাধারণ নিরীহ জনগণকে হয়রানি শুরু করেছে এসআই নুরুল ইসলাম,এমন অভিযোগ করেছেন অনেকেই।
এলাকাবাসীরা জানান, নুরুল ইসলাম বায়েজিদ থানায় যোগদানের পর থেকে অদ্যাবধি দাপটের সঙ্গে চাকরি করে যাচ্ছেন। তিনি পদবিতে এসআই হলেও নিজেকে ওসির সমতুল্য ভেবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চষে বেড়ান পুরো এলাকাজুড়ে।
বায়েজিদ থানা এলাকায় বিভিন্ন খাত থেকে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একই স্থানে দীর্ঘদিন চাকরিতে বহাল থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন এলাকাবাসীরা।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, এসআই নুরুল ইসলামের অবৈধ কর্মকান্ডে সহযোগী হিসেবে রয়েছে স্থানীয় কথিত কিছু ভূঁইফোঁড় সাংবাদিক, দালাল শ্রেণির রাজনৈতিক নেতা। যারা পুরো এলাকা জুড়ে তার বিশ্বস্ত সোর্স হিসেবেই কাজ করে থাকেন।
স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশকরে এ প্রতিবেদককে জানান, গত বছরের ৫ আগষ্ট দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের রদবদল হলেও বায়েজিদ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলাম রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কমিশনার আদেশ নং-২০৫/২০২৫ (স্বারক নং-সিএমপি/আরওআই (সিআরও)/৭৮৩৭/১(১৫) এ এসআই নুরুল ইসলামের বদলির আদেশ জারি হয়। তাকে উত্তর বিভাগ থেকে প্রসিকিউশন বিভাগে বদলির আদেশে স্বাক্ষর করেন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ।
বদলির আদেশ হলেও অদৃশ্য শক্তিতে বদলির আদেশ ঠেকিয়ে এখনও রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে।
এলাকা জুড়ে গুঞ্জন উঠেছে পলাতক আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদেরকে বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করাসহ মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। ফলে যেকোন মূল্যে তিনি থাকতে চান পুরনো কর্মস্থলে।
যোগদানের পর চাকরির মেয়াদকাল অতিবাহিত হলেও দাপটের সাথে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ বাণিজ্য করাসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তার কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নগর পুলিশ কমিশনার বরাবরে অভিযোগও জানিয়েছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
এরই মধ্যে তার নানান অপকর্মের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে স্থানীয়েএক ব্যবসায়ী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এছাড়াও মরিয়ম বেগম নামের স্থানীয় এক নারীও পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু এখনো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, এসআই নুরুল ইসলামের ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে অনেকেই বায়েজিদ এলাকায় নিরাপদে থাকতে পারছেন না এবং প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক পুলিশ সদস্য বলেন, বায়েজিদ থানায় দায়েরকৃত খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর মামলাগুলো তিনি নিজ থেকেই তদন্তের দায়িত্ব নেন।
এই মামলাগুলো ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ওসি ও উদ্ধতন কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে রিপোর্ট দিয়ে দিয়ে থাকেন। প্রতিবাদ করলেই হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয় এসআই নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সম্প্রতি এসআই নুরুল ইসলামের বদলির আদেশ হয়েছে। কিন্তু তিনি এবারো বদলি স্থগিতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসআই নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শীঘ্রই শুরু হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বায়েজিদ থানার এস আই নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ জানান,পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যকে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আমরা স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
আপনার মতামত লিখুন :