কি হচ্ছে পাহাড়তলী থানায়-ন্যায়, না কি ভয়? বেপরোয়া পুলিশ-মামলা আতঙ্কে তটস্থ সাধারণ মানুষ


ক্রাইম বাংলা প্রকাশের সময় : মার্চ ৩, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন /
কি হচ্ছে পাহাড়তলী থানায়-ন্যায়, না কি ভয়? বেপরোয়া পুলিশ-মামলা আতঙ্কে তটস্থ সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশের পোশাক পরিবর্তন হলেও স্বভাব পরিবর্তন হলো না, এখনো প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে বেপরোয়া ভাবে হয়রানি করে আসছে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে নিয়োগকৃত কিছু পুলিশ।

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানার তেমনিই কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আসছে একের পর এক অভিযোগ।

অহেতুক সাধারণ মানুষকে থানায় ধরে এনে মামলা দিয়ে ভয় দেখানো, মাদকসহ সাজানো মামলা, চাঞ্চল্যকর মামলায় নাম জড়ানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ নানান অভিযোগ উঠছে তাদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্দিষ্ট কোনো অপরাধে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও পাহাড়তলী থানা পুলিশের একটি সিন্ডিকেটের হাতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আফসার, তার আস্তাভাজন এস আই হাবিব ও এস আই সবুজসহ থানায় পুলিশের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।

এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগে উঠেছে থানার এস আই হাবিবের বিরুদ্ধে। চুন থেকে পান খসলেই তিনি সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান থানায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আফসারের আস্থাভাজন হওয়ায় এস আই হাবিব সাধারণ মানুষকে থানায় ধরে এনে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এস আই হাবিবের নেতৃত্বে এ এস আই সবুজসহ প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করে আসছেন। এসব দেখার যেন কেউই নেই। তাদের মন্তব্য রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়, তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনবে কে?

ভুক্তভোগীরা জানান, পাহাড়তলী থানার ওসির নির্দেশে এস আই হাবিব সন্দেহজনক গ্রেপ্তার দেখিয়ে যখন যাকে ইচ্ছে তাকে ধরে নিয়ে যায় থানায়।

একটি অভিযোগে নাম প্রকাশ না করে ভিকটিম বলেন, গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) প্রথম তারাবির নামাজের পর পাহাড়তলী বাজার মসজিদ গলি জুয়ার বোর্ডে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই হাবিব।

এসময় নগদ ৯০ হাজার টাকাসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেন এসআই হাবিব। পরে তাদেরকে একাধিক মামলার ভয় দেখানো হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে দুইজনকে ছেড়ে দেন।

বাকি ১০ জনের নিকট থেকে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করার পরও ৮৮ ধারায় প্রত্যেককে আদালতে চালান করে দেন।

এর আগে গেল ২৪ ফেব্রুয়ারি-মঙ্গলবার পৃথক অপর এক ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে বলা হয়, ওইদিন রাতে খান বাড়ির এজাহারের ঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের হয়রানি করা হয়েছে। অভিযোগের তীর থানার এসআই হাবিব ও এসআই সবুজের বিরুদ্ধে।

বলা হয়, সেদিন রাত সাড়ে বারোটার সময় ঈদগা কাঁচা রাস্তার মাথা স্বপ্ন বাজারের সামনের মসজিদ গলির থেকে তুহিন ও রিফাত নামের দুইটা ছেলেকে গ্রেপ্তার করেন এস আই হাবিব ও এ এস আই সবুজ।

অভিযোগ রয়েছে-অভিযানের সময় রিফাতের নিকট থেকে তিনটি ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও তুহিনের নিকট কোন কিছুই পাওয়া যায়নি।

তবে এস আই হাবিব তুহিনকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবার থেকে ৩০ হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেন।

তুহিন প্রতিবেদককে জানান এস আই হাবিব আমাকে বলেন তোমাকে ছেড়ে দিচ্ছি এ বিষয়ে কাউকে কোন কিছু বলতে পারবা না তোমরা প্রতিদিন থানায় এসে আমার সাথে দেখা করবে।

অন্যদিকে ইয়াবাসহ রিফাতকে আটক করা হলেও পরের দিন তার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়ে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার না দেখিয়ে থানা হাজত হতে তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয় অভিযোগে।

নাম প্রকাশ না করা সর্তে এক ভিকটিম বলেন, পাহাড়তলী থানা পুলিশের সিন্ডিকেটটি এতটাই বেপরোয়া যে, কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মাদক মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তাছাড়া চাঞ্চল্যকর মামলায় নাম যুক্ত করে সারাজীবন জেলের ঘানি টানানোর কথা বলা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব ঘটনায় তারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন এ প্রতিবেদককে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)র মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন প্রতিবেদক।

তবে থানার একটি সূত্র দাবি করছেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। পুলিশ আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করার প্রশ্নই ওঠে না।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।