চট্টগ্রামে পুলিশের দাদাগিরি, অপহরণ মামলায় ৭ বছরের শিশুকে গ্রেফতার


ক্রাইম বাংলা প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ১১:১৯ অপরাহ্ন /
চট্টগ্রামে পুলিশের দাদাগিরি, অপহরণ মামলায় ৭ বছরের শিশুকে গ্রেফতার

বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার মূল কারিগড় আওয়ামী পুলিশ বাহিনী সদস্যরা ২৫এর ৫ই আগষ্টের পর কি আত্মগোপনে গিয়ে অনেকেই পালিয়ে বিদেশে পাড়ি জমালেও অধিকাংশ আওয়ামী পুলিশ ছদ্মবেশে বর্তমান পুলিশ প্রশাসনে কর্মরত রয়েছে। ঐ আওয়ামী পুলিশবাহিনী সক্রিয় সদস্যরা জামাত-বিএনপির লেভাস নিয়ে আরাে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তারই ধারা বাহিকতায় জামাত-বিএনপির কিছু ধান্দাবাজ নেতা কর্মীর কথামত মামলা গ্রহন করে সাধারণ মানুষকে নি:শ্ব করে দিচ্ছে। তারা আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে ৭ বছরের শিশুকে।

শিশু আইন অনুযায়ী, ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু আসামি করার কোনো সুযোগ না থাকলেও গ্রেফতার হওয়া শিশুটিকে গত শুক্রবার গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠিয়ে দেন আদালত । গত তিন দিন ধরে শিশুটি সেখানে রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতপাড়ার আইজীবি ও নগর পুলিশের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

ঘটনার শুরু চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল। চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় বসবাসরত আনোয়ারা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান অসুস্থ হলে সেদিন চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সঙ্গে নিয়ে যান চার বছরের ছোট সন্তান মো. রামিমকেও। কিন্তু রামিম সেখান থেকে হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও রামিমকে না পেয়ে ঘটনার সাত মাস পর শুক্রবার পাঁচলাইশ থানায় অপহরণ মামলা করেন তার মা আনোয়ারা বেগম।

মামলায় আসামি করা হয় আইনের সংস্পর্শে নেওয়া ৭ বছরের শিশুটি ও তার ৩০ বছর বয়সী মাকে। এতে বলা হয়, বাদী জানতে পারেন তাঁর ছেলেকে হাসপাতালের বারান্দা থেকে সাত বছরের ওই শিশু ও তার মা খেলার কথা বলে অপহরণ করে নিয়ে যান। মামলা হওয়ার পর ওই দিনই পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক ষোলশহর এলাকা থেকে সাত বছরের শিশু ও তার মাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম আজ রোববার গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর চার বছরের শিশুর এখনো খোঁজ পাননি। সাত বছরের শিশু কীভাবে অপহরণ কর‍ল জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, একজনের কাছ থেকে জানতে পারেন শিশুটি ও তার মা অপহরণে জড়িত।

জানতে চাইলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৭ চট্টগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিউল মোরশেদ গণমাধ্যমকে বলেন, শিশু আইন ও দণ্ডবিধিতে ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া, গ্রেপ্তার কিংবা আটকের সুযোগ নেই।

শিশুটির জন্মনিবন্ধন সনদ আছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে আদালতের আদেশের নথি, মামলা এজাহারে বাদী শিশুটির বয়স সাত উল্লেখ করেছেন। শিশুটির বাবারও দাবি, ছেলেটি বয়স সাত।

আইনে না থাকলেও কেন সাত বছরের শিশুর বিরুদ্ধে থানায় মামলা গ্রহণ ও আইনের সংস্পর্শে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অমিতাভ দত্ত আজ রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নেওয়ার সুযোগ নেই।’ তারপরও এ রকম কেন হয়েছে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

সাত বছরের শিশু ও তার মাকে শুক্রবারই আদালতে নেওয়া হয়। তার মাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

অন্যদিকে কোনো শিশু আসামি হলে তাকে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হয়। কিন্তু চলতি ডিসেম্বরের শুরু থেকে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের নিম্ন আদালতেও চলছে মাসব্যাপী অবকাশ। ফলে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই সময় এ–সংক্রান্ত মামলা চলবে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে। তবে শুক্রবার শিশুটিকে আদালতে নেওয়া হলেও এজলাসে হাজির করা হয়নি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতে শিশুটিকে আনা হলেও এজলাসে হাজির করা হয়নি। বিচারকের সই করা অন্তর্বর্তীকালীন পরোয়ানায় টঙ্গীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মফিজুল হক ভূঁইয়া আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আজ আদালতে শিশুটির জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্র জানায়, আজ বিকেলে দেওয়া এক আদেশে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম উল্লেখ করেন, শিশু আইন ২০১৩–এর ৪৪ (১) ধারা মতে, ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গ্রেপ্তার ও আটকের সুযোগ নেই। পাঁচলাইশ থানার মামলায় সাত বছরের শিশুটি বর্তমানে গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। তাকে তার বাবার জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হোক।

শিশুটির বাবা চা–দোকানে চাকরি করেন। মামলার বাদী ও তাঁরা প্রতিবেশী। জানতে চাইলে শিশুটির বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাত মাস আগের ঘটনায় আমার স্ত্রী ও সাত বছরের শিশুকে কেন আসামি করেছে, বুঝতেছি না।’ তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাঁর ছেলেকে আসামি করেছে।

জানতে চাইলে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ আজ সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা যাচাই–বাছাই করছি। এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ভুলে হয়তো মামলা নিল, কিন্তু আইনের সংস্পর্শে নিয়ে আদালতে কীভাবে পাঠাল। ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ ধরনের ঘটনা পুলিশ বারবার করবে।