back to top

সরকারি টাকা আত্মসাৎকারী ও দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীদের চরম হুঁশিয়ারি: ‘জনগণ কাউকে ক্ষমা করবে না’-মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬ ০০:১৪

স্টাফ রিপোর্টার:

ঠিকাদারের কাছ থেকে ২০% কমিশন পকেটে পুরে, কাজ বুঝে না নিয়ে বিল পাস করে দেওয়ার দিন শেষ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জাগ্রত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখন আর আগের মতো ‘সরল’ বা বোকা নেই। তারা সব বোঝেন, সব খোঁজ রাখেন। জনগণের রক্তে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে দুর্নীতিবাজ, লুটেরা এবং ঠিকাদার তোষণকারী প্রকৌশলীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের প্রকৌশলীদের প্রতি এমন তীব্র ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সাড়ে তিন হাজার কোটির নজিরবিহীন লুটপাট ও প্রকৌশলীদের দায়

আইইবির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে স্থানীয় সরকার বিভাগের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান যে, দেশের একটি জেলায় (সম্ভবত পিরোজপুর) কোনো কাজ না করেই স্থানীয় সরকার বিভাগের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা স্রেফ লোপাট করে দেওয়া হয়েছে!

এই নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রকৌশলীদের পেশাগত সততা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তোলেন এবং এসব বিষয়ে তীব্র সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।

‘২০% কমিশন’ ও সাইন করার আগে কঠোর বার্তা

ঠিকাদারদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে যারা সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের মানুষ এখন সম্পূর্ণ সচেতন। ঠিকাদারের প্রেসক্রিপশনে বা কমিশনের লোভে অন্ধ হয়ে কাজ বুঝে না নিয়ে বিলে স্বাক্ষর করার প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রকৌশলীদের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন:

“এই দেশের মানুষ এখন আগের মতো সরল নেই। তাঁরা সবকিছু বোঝেন, সবকিছু জানেন। এই দেশের মানুষ কিন্তু কাউকে ক্ষমাও করবে না। আজকে আমরা যদি ভুল করি, আমাদেরও ক্ষমা করবে না। কাজের শত ভাগ বুঝে নিয়ে তবেই ঠিকাদারের বিলে স্বাক্ষর করবেন।”

নতুন বাংলাদেশে দুর্নীতির স্থান নেই

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তরুণদের রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে দেশ এক ঘুণে ধরা ও পুরোনো ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ চাই, যেখানে চুরির কোনো জায়গা নেই। শহীদদের রক্তের ধারাকে ম্লান হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি মনে করিয়ে দেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল, ওয়াসা কিংবা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের মতো বিভাগগুলো সরাসরি জনগণের ন্যূনতম চাহিদার সাথে জড়িত। তাই প্রকৌশলীদের তৈরি নকশা ও পরিকল্পনা যেন কোনো ব্যক্তি বা ঠিকাদারের পকেট ভারী না করে, বরং জনগণের প্রকৃত কল্যাণে আসে—তা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা

আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজউকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহরিন ইসলাম তুহিন।

অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়া প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, সানজিদা ইসলাম, মাহবুবা হাকিম ও মারদিয়া মমতাজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া গবেষণা ও প্রশিক্ষণে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ জয়ী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল বাকীকেও অনুষ্ঠানে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।