back to top

অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম আসছে কাল

প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:৫৮

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এই আমদানি কার্যক্রম দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, মোট ৫১ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলবাহী দুটি জাহাজ আগামী ৮ এপ্রিল বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিপিসির সহকারী ব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা গণমাধ্যমকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বন্দর সূত্র অনুযায়ী, মালয়েশিয়া থেকে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের আইসল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত অকটেন বহন করা হচ্ছে, যা ৮ এপ্রিল রাতে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে।

একই দিনে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি জাহাজও বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও সরবরাহ স্বাভাবিক
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তবে এর মধ্যেও বিপিসি নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্রিয় রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ চেইন সচল রাখতে ধারাবাহিকভাবে তেলের জাহাজ আসছে।

পরিসংখ্যান বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৮টি জাহাজ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে। এছাড়া চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহেই আরও ৬টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে।

অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বড় চালান দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পরিবহন খাত, শিল্প উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি একটি প্রধান চালিকাশক্তি। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

বিশেষ করে ফার্নেস অয়েল বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে অকটেন সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিবহন খাতে চাপ কমবে, যা সরাসরি বাজারে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাজারে স্থিতিশীলতা ও জনস্বস্তি
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগাম পরিকল্পনা এবং নিয়মিত আমদানির ফলে দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই। এতে বাজারে এক ধরনের আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে, যা বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসবে। জ্বালানি সংকট না থাকলে পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও সরবরাহ নিশ্চিত করার এই প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।