back to top

‘গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সাংবাদিকদের অবদান অনস্বীকার্য-চট্টগ্রামে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয় উদ্বোধনে দুই প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৫ জুন, ২০২৬ ১৭:০৩

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে এবং দেশের অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার সংবাদ প্রকাশে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্বাস করে না।

শুক্রবার (৫ জুন) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবনে ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন’ (সিএমইউজে)-এর নতুন কার্যালয় উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ‘জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হল’-এ এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অতীত মূল্যায়ন

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে সাংবাদিকদের কল্যাণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি তাঁর বক্তব্যে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর অবদান স্মরণ করে বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়াও সাংবাদিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছিলেন। বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে, গণমাধ্যমের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছে।”

নিজের দীর্ঘদিনের পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা টেনে সাবেক এই বিবিসি সাংবাদিক বলেন, “আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করার সুবাদে আমি সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ ও সংকটগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই আমি গণমাধ্যমের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করছি।”

“বর্তমান সরকার সংবাদ প্রকাশে কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপে বিশ্বাস করে না। অতীতের মতো গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংবাদ নিয়ন্ত্রণের কোনো মানসিকতা সরকারের নেই।” — ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

অপতথ্য রোধে সরকারি প্রশিক্ষণ

তথ্য প্রযুক্তির বর্তমান যুগে ‘মিসইনফরমেশন’ (ভুল তথ্য) ও ‘ডিসইনফরমেশন’ (অপতথ্য)-কে একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এই অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় সরকার দেশব্যাপী সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে।

ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে, যেখানে প্রতি ব্যাচে ৩০ থেকে ৩৫ জন সাংবাদিক অংশ নিচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব অঞ্চলের সাংবাদিকদের এই আওতায় আনা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

সুশাসনে সরকার ও গণমাধ্যম পরিপূরক

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার এবং গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও গঠনমূলক সমালোচনা সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ব্যক্তিগত বা দলগত বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সংবাদমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই তিনি মাঠপর্যায়ের অনেক জনদুর্ভোগের খবর জানতে পেরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পেরেছেন। সাংবাদিকদের আবাসনসহ অন্যান্য যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

উপস্থিতিবৃন্দ

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন:

  • আবু সুফিয়ান, সংসদ সদস্য (চট্টগ্রাম-৯)

  • ওবায়দুর রহমান শাহীন, সভাপতি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)

  • এম এ মালেক, সম্পাদক, দৈনিক আজাদী

  • জাহিদুল করিম কচি, সভাপতি, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব

  • গোলাম মওলা মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব

  • সালেহ নোমান, সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।