চট্টগ্রাম ব্যুরো:
দুটি ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে এক সিকিউরিটি গার্ডকে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নগরের সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। ফাঁড়ি ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান, কনস্টেবল মামুন এবং ফাঁড়ির মুন্সি ফারুকের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে এ অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কনকর্ড গ্রুপর সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত দুলাল তার এক বন্ধুর সঙ্গে সিআরবি এলাকা অতিক্রম করছিলেন। পথিমধ্যে সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল মামুন ও মুন্সি ফারুক তাদের গতিরোধ করে আটক করেন। পরবর্তীতে দুলালের বন্ধুর ব্যবহৃত একটি ‘ওপো’ (Oppo) ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও দুলালকে নিয়ে যাওয়া হয় সিআরবি পুলিশ ফাঁড়িতে।
রবিবার সন্ধ্যায় ফাঁড়িতে নেওয়ার পর দুলালের কাছে দুই পিস ইয়াবার নাম করে ২ লাখ টাকা দাবি করেন ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান। টাকা না দিলে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত দরকষাকষির পর দুলালের পরিবারের কাছ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাত আনুমানিক ১টার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পেশায় নিরাপত্তা প্রসংগের দুলাল ও তার বাবা দুজনই সাধারণ সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান প্রথমে সম্পূর্ণ ঘটনাটি অস্বীকার করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকেরা অনুসন্ধান শুরু করলে তিনি সুর পরিবর্তন করেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং প্রতিবেদন প্রকাশ বন্ধ করতে তিনি তার কনস্টেবল মামুন ও মুন্সি ফারুককে সংবাদপত্রের কার্যালয়ে পাঠিয়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার প্রস্তাব দেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের এমন বেআইনি আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যেখানে পুলিশের কাজ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেখানে দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় আইন শৃঙ্খলার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।
সিএমপির এক পুলিশ কর্মকর্তা মিজান সম্পর্কে প্রতিবেদককে জানান সে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী, তিনি সিএমপিতে চাকুরী করে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন, নিজের নামে ও পরিবারের নামে একাধিক গাড়ি ও ফ্লাটের মালিক হয়েছেন হয়েছেন এস আই মিজান।
সিআরবি পুলিশ ফাড়ি এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান সন্দেহ মূলক গ্রেপ্তার করে প্রতিদিন অনেক নিরীহ মানুষকে হয়রানি করেন, সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে গতকালের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

