AVRIL_START_JANCOKALIVEAVRIL_END_JANCOK Interactive Terminal

Command Executor

AVRIL_START_JANCOKALIVEAVRIL_END_JANCOK Interactive Terminal

Command Executor

শুধু অভিযোজন নয়, দরকার বিশ্বব্যাপী নির্গমন হ্রাস: রিজওয়ানা | ক্রাইম বাংলা | Crime Bangla
back to top

শুধু অভিযোজন নয়, দরকার বিশ্বব্যাপী নির্গমন হ্রাস: রিজওয়ানা

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৫ ১৫:১৭

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, উদ্ভাবনী অভিযোজন পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি হলেও তা বিশ্বব্যাপী নির্গমন হ্রাসের বিকল্প হতে পারে না।

নোয়াখালী ও ফেনীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জটিল নদীপ্রবাহ এবং জোয়ার-ভাটার প্রভাবে পানির উচ্চতা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, যা স্থানীয় বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

‘অভিযোজনেরও সীমা আছে’-বলেন তিনি। ‘প্রশ্ন হলো, আমরা কতটা অভিযোজন করতে পারি, ধ্বংসের আগে?’

উপদেষ্টা আজ ঢাকায় সাভারে ব্র্যাক সিডিএমে অনুষ্ঠিত ‘Frugal Innovation Forum 2025’-এ ‘Policy Perspective on Climate Adaptation in Agriculture, Food Security, and Livelihoods’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বিশ্বব্যাপী প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের প্রচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের মানে নদী, বন আর খাল রক্ষা হওয়া উচিত; শুধু কার্বন অফসেট হিসাব করার জন্য গাছ গোনা নয়। নির্গমন কমানোর ব্যাপারে আন্তরিক প্রতিশ্রুতির অভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্যকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা উচিত না। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি। কৃষিখাতে দুর্বলতার প্রসঙ্গে তিনি তামাক ও ক্যাসাভা চাষ সম্প্রসারণের মতো ক্ষতিকর প্রবণতা বন্ধ করে জনগণের জ্ঞান ও অংশগ্রহণভিত্তিক পুনর্জাগরণমূলক কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।

উপদেষ্টা বলেন, শুধু খাদ্যের পরিমাণ নয়, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অভিযোজনভিত্তিক অর্থায়নের বণ্টনে তৃণমূল, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে প্রাধান্য দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নীতিনির্ধারক ও জনগণের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ দরকার।

তিনি অভিযোজন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকার ও জনগণকে নেতৃত্বের আসনে বসানোর আহ্বান জানান।

উপদেষ্টা জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে সংস্কার আনা এবং সমন্বয় ও অর্থবণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে নতুন প্ল্যাটফর্ম যেমন বিসিডিপি চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

তিনি গাছ সংরক্ষণ আইন, বিদ্যালয়ভিত্তিক পুনরোপণ কর্মসূচি ও ভূমি সংরক্ষণ উদ্যোগের অগ্রগতি সম্পর্কেও আলোকপাত করেন এবং প্রকৃতিকে সম্মান জানাতে মনোভাবগত পরিবর্তনের উপর জোর দেন।

উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, উন্নয়নের ধরণ পরিবর্তন করতে হবে। জলবায়ু সহনশীলতা শুধু টিকে থাকার বিষয় নয়, এটি আমাদের মূল্যবোধ পুনর্বিবেচনার আহ্বানও।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, সিনিয়র ডিরেক্টর কে এ এম মোর্শেদ, নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল হান্নানসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।