AVRIL_START_JANCOKALIVEAVRIL_END_JANCOK Interactive Terminal

Command Executor

AVRIL_START_JANCOKALIVEAVRIL_END_JANCOK Interactive Terminal

Command Executor

খামেনি নিহত, এখন কে দেবেন ইরানের নেতৃত্ব | ক্রাইম বাংলা | Crime Bangla
back to top

খামেনি নিহত, এখন কে দেবেন ইরানের নেতৃত্ব

প্রকাশিত: ০১ মার্চ, ২০২৬ ০৬:২৩

প্রায় চার দশক ধরে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে বড় প্রশ্ন। তার পর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া অস্থিরতার মধ্যেই এখন তেহরানে ঘুরপাক খাচ্ছে উত্তরসূরি নির্ধারণের আলোচনা।

তবে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় প্রাণ হারানোর আগেই ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি পরিকল্পনা রেখে গেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা ছিলেন তিনি।

ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কঠোর হাতে দেশ শাসন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার দাবি করেন, খামেনি নিহত হয়েছেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য নিশ্চিত করে।

উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে ইরানের সংবিধানে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক হতে হয়। তাকে নির্বাচিত করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ নামে পরিচিত ধর্মীয় পরিষদ।

গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে আত্মগোপনে থাকার সময় খামেনি সম্ভাব্য তিনজন উত্তরসূরির নাম নির্ধারণ করেছিলেন বলে একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তারা হলেন গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই, আলী আসগর হেজাজি, হাসান খোমেনি।

গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই বর্তমানে বিচার বিভাগের প্রধান। আলী আসগর হেজাজি খামেনির দপ্তরপ্রধান। হাসান খোমেনি সংস্কারপন্থি ধারার ধর্মীয় নেতা এবং রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি।

এ ছাড়া মোজতবা খামেনির নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে। তবে খামেনি নিজে নেতৃত্বকে বংশানুক্রমিক করতে চাননি বলে জানা গেছে।

হামলার আগে খামেনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি কার্যত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে পাশ কাটিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছিলেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তেহরানের পাস্তুর কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন, দপ্তর এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় অবস্থিত।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি ছোট রাজনৈতিক ও সামরিক মহলকে ক্ষমতা দিয়েছিলেন খামেনি। সম্ভাব্য নেতৃত্ব কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে ছিলেন আলী আসগর হেজাজি, মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি।

তবে শনিবার রাত পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি, বর্তমানে কার্যকর নেতৃত্ব কার হাতে রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগে বলেছিলেন, আমাদের কিছু নেতা হারালেও সেটি বড় সমস্যা নয়। আত্মরক্ষায় আমাদের কোনো সীমা নেই।

খামেনির মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য, ধর্মীয় কর্তৃত্ব এবং সামরিক প্রভাবের সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষজ্ঞ পরিষদের দ্রুত বৈঠক ডাকা হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ঘোষণা আসতে পারে।

তবে চলমান সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সোর্সঃ নিউ ইয়র্ক টাইমস