AVRIL_START_JANCOKALIVEAVRIL_END_JANCOK Interactive Terminal

Command Executor

AVRIL_START_JANCOKALIVEAVRIL_END_JANCOK Interactive Terminal

Command Executor

মজুদদাররা ব্যবসায়ী নয়, তারা রাষ্ট্রের শত্রু: ডিসি জাহিদ | ক্রাইম বাংলা | Crime Bangla
back to top

মজুদদাররা ব্যবসায়ী নয়, তারা রাষ্ট্রের শত্রু: ডিসি জাহিদ

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫৯

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর এলাকায় অবৈধভাবে তেল মজুদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধায় নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সলিমপুরের সিটি আবাসিক গেটসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদারকি করেন। এ সময় গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে প্রায় ২৫ হাজার লিটার অবৈধভাবে মজুদ করা ডিজেল উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধার করা তেল পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি অসাধু চক্র সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে পরিবহনের সময় জ্বালানি তেল অপসারণ করে গোপনে মজুদ করছিল।

অভিযান প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, “গত ২৭ মার্চ থেকে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে।

সেদিন ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছিল। আজ সলিমপুরে প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খুবই ভালো কাজ করছে।”

অবৈধ মজুদকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসা করছে, তারা ব্যবসায়ী নয়—অপরাধী। তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।”

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই।

এ পর্যন্ত প্রায় ১০টি জাহাজ এসেছে এবং আজ সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ রওনা হয়েছে, যাতে প্রায় ৩০০ টন ডিজেল রয়েছে। সেটি আগামীকাল চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করবে। গত দুই দিনেও আরও দুটি জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়েছে।”

বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল মজুদ রয়েছে।

তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করুন। কেউ অতিরিক্ত মজুদ করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসন জানায়, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত জেলায় ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৪.৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১৮ থেকে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রশাসন বলছে, অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।