back to top

চট্টগ্রামে রাতের আঁধারে ওয়াসার প্রকল্পে ঝুঁকিপূর্ণ খনন,মাটি ধ্বসে ২ প্রাণহানি

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:৪০

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে মাটিধসে চাপা পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভোর ৪টার দিকে হালিশহর থানাধীন আগ্রাবাদের বি-ফোর এক্সেস রোড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোডের সিঙ্গাপুর মার্কেটের সামনে পানির পাইপ বসানোর জন্য মাটি খননের সময় চারজন শ্রমিক হঠাৎ ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়েন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের মধ্যে একজনের নাম তুষার, তার বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। অপরজন রাকিব—তার বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত দুই শ্রমিক সাগর ও এরশাদ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ভোরের দিকে খননকাজ চলাকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। চার শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়েন, পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোডে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘ট্রায়াল পিট’ খননের কাজ চলছিল।

গভীর রাতে কাজ করার সময় এই মাটিধসের ঘটনা ঘটে। প্রকল্পটির কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো। তাদের কাছে দুর্ঘটনার প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, “মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না।”

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক বলেন, চারজন শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে—এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ খননকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ওয়াসা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায় কতটা, আর এই দায় এড়ানোর সুযোগ আদৌ আছে কি না।