back to top

একজন মানুষের জীবন-মৃত্যুর লড়াই চলছিল কনটেইনারের নিচে

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:৩৩

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির ওপর তুলাভর্তি কনটেইনার আছড়ে পড়ে লরির সহকারী মো. ইয়াসিন (২৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার সময় কনটেইনারটির নিচে তাঁর কোমরের নিচের অংশ আটকে যায়। প্রাণে বাঁচতে তিনি চিৎকার করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই একটি হালকা ক্রেন দিয়ে কনটেইনারটি সরানোর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

পরে ভারী ক্রেন এনে প্রায় এক ঘণ্টা পর কনটেইনারটি সরিয়ে ইয়াসিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, লরির কেবিনের ভেতরের বাঁ পাশে কনটেইনারের নিচে চাপা পড়ে ছিলেন ইয়াসিন। তিনি কিছুক্ষণ পরপরই উদ্ধারের জন্য চিৎকার করছিলেন।

এ সময় লরির চালক হৃদয় খোলা অংশ দিয়ে তাঁকে বাতাস করছিলেন, যাতে তিনি কিছুটা স্বস্তি পান।

পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম চলতে থাকে। প্রথমে হালকা ক্রেন ব্যর্থ হলে পরে ভারী ক্রেন এনে দুর্ঘটনাকবলিত কনটেইনার ও লরি সড়ক থেকে সরানো হয়। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে চট্টগ্রামমুখী লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. মাহবুব জানান, ওই এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান দ্রুতগতিতে এসে ইউটার্ন নেয়। এ সময় ঢাকামুখী একটি তুলাভর্তি কনটেইনারবাহী লরি সামনে ঘুরতে থাকা কাভার্ড ভ্যানটিকে দেখে হঠাৎ ব্রেক করে।

এতে কনটেইনারটি ছিটকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি লরির ওপর পড়ে, যেখানে ইয়াসিন অবস্থান করছিলেন।

আকবরশাহ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, আহত ইয়াসিনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর অবস্থা গুরুতর। তিনি বাঁ পায়ে আঘাত পেয়েছেন।

দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ মামলা করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

উদ্ধার কাজ শেষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।