বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
সাধারণ মানুষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে ও মামলা-বাণিজ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) হৃদয় মাহমুদ লিটন এবং এসআই রফিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিরপরাধ মানুষের জীবন ছারখার করে নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক এফডিআর (FDR) ও একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক বনে গেছেন পুলিশ বাহিনীর এই দুই সদস্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এসআই হৃদয় মাহমুদ লিটন ও এসআই রফিকের যৌথ ষড়যন্ত্রের সাম্প্রতিক শিকার হয়েছেন মো. শাকিল ও মো. রাসেল নামে দুই যুবক। তাদের কাছে কোনো মাদক না পাওয়া সত্ত্বেও সাজানো ও মনগড়া বিবরণ দিয়ে একটি মিথ্যা ইয়াবা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কোনো দোষ না করেও এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার জঘন্য চক্রান্তে প্রায় সাড়ে তিন মাস (১০৫ দিন) কারাবাস ভোগ করতে হয়েছে শাকিল ও রাসেলকে। এতে তাদের পরিবার একদিকে যেমন আর্থিক নিঃস্ব হয়েছে, অন্যদিকে সামাজিকভাবে চরম অপমানের মুখোমুখি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চান্দগাঁও থানাকে নিজেদের ‘বাণিজ্যিক ক্ষেত্র’ বানিয়ে ফেলেছিলেন হৃদয় লিটন ও রফিক। এলাকার সাধারণ পথচারী বা কোনো ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে গোপনে ইয়াবা গুঁজে দিয়ে তাদের আটকে রাখা হতো। এরপর মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হতো। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলে সাজানো মাদক মামলায় চালান করে দেওয়া হতো আদালতে।
এই জিম্মি ও মামলা-বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ তারা গচ্ছিত রেখেছেন নিজেদের এবং নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই কর্মকর্তার নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহর ও আশেপাশের এলাকায় একাধিক অভিজাত ফ্ল্যাট কিনেছেন তারা।
কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে শাকিল ও রাসেল চরম মানসিক ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি তুলে ধরে ভুক্তভোগী পরিবার দুটি উর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুবিচারের আকুতি জানিয়েছে।
একই সাথে, একসময় সাধারণ মানুষের সুরক্ষার দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তাদের এমন ভয়াবহ অপরাধে জড়িত থাকার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার কর্মীরা। তারা এসআই হৃদয় মাহমুদ লিটন ও এসআই রফিকের দ্রুত বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের সম্পদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

