back to top

আখাউড়ায় রেলওয়ে ক্যান্টিন নির্মাণে বাধার অভিযোগ: নেপথ্যে চাঁদাবাজি ও অবৈধ আয়ের সিন্ডিকেট

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৪

আখাউড়া প্রতিনিধি : —
আখাউড়া প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা কার্যকরী সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শামসুল হক ভূঁইয়ার ছেলে জনাব এস,এম,ইনামুল হক ভূঁইয়া নামে বরাদ্দকৃত রেলওয়ে ক্যান্টিন নির্মাণে বাধা সৃষ্টি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সাংবাদিক ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী স্থান বরাদ্দ পাওয়ার পর কাজ শুরু করা হলে, উক্ত অপসংবাদিক নানা বাহানায় নির্মাণকাজ আটকে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও আখাউড়া স্থানীয় জনগণ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রের বরাতে জানা যায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ মরহুম শামসুল হক ভূঁইয়ার ছেলের নামে ৩০০ বর্গফুটের একটি স্থান ক্যান্টিন পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দ পাওয়ার পর উক্ত স্থানে বৈধভাবে ক্যান্টিন নির্মাণের কাজ শুরু করা হলে স্থানীয় ওই সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তি ও তার কয়েকজন সহযোগী পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নির্মাণকাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টি শুরু করে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ বছর ধরে বরাদ্দকৃত উক্ত খালি স্থানটিতে কতিপয় প্রভাবশালী অবৈধ দোকানপাঠ বসিয়ে এবং অবৈধ পার্কিং বাণিজ্য চালিয়ে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্থানটি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বনামধন্য প্রয়াত সাংবাদিক পরিবারের ছেলে জনাব ইনামুল ক্যান্টিন হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ায় ওই অবৈধ চক্রটির অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তারা এখন বরাদ্দ বাতিলের জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও প্রবাসী ছেলে জনাব ইনামুল জানান, চাঁদা দাবি ও বারবার বাধার মুখোমুখি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আখাউড়া থানা, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ডিআইজি মহোদয়ের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে শরণাপন্ন হওয়ায় ওই গোষ্ঠীটি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করে।
শুধু তাই নয়, এই অবৈধ দখলদার চক্রটি রেলওয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের নজর ভিন্নদিকে ঘোরাতে অপকৌশল গ্রহণ করছে। অভিযোগ রয়েছে, ইতিপূর্বে তারা টাকার বিনিময়ে লোক ভাড়া করে একটি মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আগামীকাল বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আখাউড়ায় বিভিন্ন রেল প্রকল্প পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। কর্মকর্তাদের আগমনের সুযোগে বরাদ্দকৃত ক্যান্টিনটির নির্মাণ কাজে বাধা তৈরি করতে সু-কৌশলে কিছু লোকদের ভাড়া করে এনে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ও সরকারের সঠিক সিদ্ধান্তকে ব্যাহত করার জন্য ইতিমধ্যে পরিকল্পনা করে ছক তৈরি করেছে। এটি সরকারের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক বিদ্রোহের কার্যকলাপ বটে, এর অংশ হিসেবে স্থানীয় উক্ত সাংবাদিকের নির্দেশে প্রতিজনকে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার চুক্তিতে ২৫ জন ভাড়াটে লোক প্রস্তুত রাখা হয়েছে, রেলওয়ে কর্মকর্তাদের আগামীকাল আগমন উপলক্ষে অনেজ্য দাবির জন্য, যারা জিএম-এর সামনে সস্তা নিম্নমানের নাটক মানববন্ধন প্রদর্শন করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করবে। ঘটনার বিবরণে জানা যায় পথভ্রষ্ট গণমাধ্যম কর্মী যিনি পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন তাহার নামে তিনটি মামলাও রয়েছে ।মামলা গুলো হচ্ছে ঢাকা বিমানবন্দর থানার মামলা নং- এফআইআর নং-০৯, তারিখ: ০৬ জুলাই, ২০২৫; জিআর নং-২০৩, তারিখ: ০৬ জুলাই, ২০২৫। চট্টগ্রাম রেলওয়ে জেলার অন্তর্গত ঢাকা রেলওয়ে থানার এফআইআর নং-০৯, তারিখ: ৩০ মার্চ, ২০১১। আখাউড়া থানার এফআইআর নং-১৬, তারিখ: ২৩ জুন, ২০২৪; জিআর নং-১১৯, তারিখ: ২৩ জুন, ২০২৪।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে, যাতে বৈধ বরাদ্দকৃত জায়গায় নিরাপদে ক্যান্টিন নির্মাণ সম্পন্ন করা যায় এবং দখলদার ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।