AVRIL_START_JANCOKALIVEAVRIL_END_JANCOK Interactive Terminal

Command Executor

AVRIL_START_JANCOKALIVEAVRIL_END_JANCOK Interactive Terminal

Command Executor

নির্বাচনী ব্যস্ততায়ও মানবিক প্রশাসন: সহায়তা পেলেন গাড়িচালক নুরুজ্জামান | ক্রাইম বাংলা | Crime Bangla
back to top

নির্বাচনী ব্যস্ততায়ও মানবিক প্রশাসন: সহায়তা পেলেন গাড়িচালক নুরুজ্জামান

প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১২

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে যখন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দম ফেলার ফুরসত নেই, ঠিক তখনই এক অসহায় নাগরিক মানবিক সহায়তার আশায় হাজির হয়েছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার দরজায়।

আর সেখানেই ফুটে ওঠে একজন প্রশাসকের মানবিক মুখ।

কর্ণফুলী টানেলের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত সেতু কর্তৃপক্ষের অস্থায়ী গাড়িচালক নুরুজ্জামান মাতুব্বর। শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার জয় নগর সরদার কান্দির গ্রামের বাসিন্দা তিনি।

গত ২৪ জানুয়ারি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় তার সেমি-পাকা বসতঘর। আগুনে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় তার জীবনের একমাত্র সম্বল।

দরিদ্র নুরুজ্জামানই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আরেক ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ, যার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে এমনিতেই বিপর্যস্ত ছিল পরিবারটি। তার ওপর ঘর পুড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি।

আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছে সাহায্য চেয়েও যখন হতাশা ছাড়া কিছুই জোটেনি, তখন শেষ ভরসা হিসেবে তিনি ছুটে যান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে—আর্থিক সহায়তার আবেদন নিয়ে।

নির্বাচনী ব্যস্ততায় সময়ের অভাব থাকলেও একজন নাগরিক মানবিক সাহায্য চেয়ে এসেছেন—এ খবর শুনেই নুরুজ্জামানকে আজ রবিবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের কক্ষে ডেকে নেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম।

অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি শুধু আবেদনটি শোনেননি, নুরুজ্জামানের পরিবারের খোঁজখবর নিতেও ভুল করেননি। আগুন কীভাবে লেগেছে, পরিবারের সদস্যরা কেমন আছেন—সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলার এই অভিভাবক।

সবকিছু শুনে তাৎক্ষণিকভাবে নুরুজ্জামানকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।

কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আবেগাপ্লুত নুরুজ্জামান এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমি জীবনে এ রকম মানুষ পাই নাই। ডিসি স্যারের ব্যবহার খুবই ভালো। কথা বলার ধরণ মন ছুঁয়ে গেছে। নির্বাচনের মতো এত বড় কাজে উনি প্রচণ্ড ব্যস্ত, তবুও আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন,“আমার কাছে মনে হয়, উনার চেয়ে ভালো অফিসার আমি জীবনে পাই নাই। আমার যে কত ভালো লাগছে, বলে বুঝাতে পারব না।”

চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে নুরুজ্জামান যোগ করেন,“স্যার আমার পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না—একজন ডিসি আমার পরিবারের কথা এতটা মন দিয়ে শুনবেন। সত্যি কথা বলতে, তখন আমার কান্না চলে এসেছিল।”

নির্বাচনী প্রস্তুতির চাপের মাঝেও একজন অসহায় নাগরিকের পাশে দাঁড়িয়ে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম আবারও প্রমাণ করলেন—দায়িত্বশীল প্রশাসনের মূল শক্তি মানবিকতা।

তার এই উদ্যোগ শুধু একজন পরিবারের কষ্ট লাঘব করেনি, বরং সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে।