back to top

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে চট্টগ্রামে রণক্ষেত্র: পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, গুলিতে আহত ৪

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬ ২১:২৪

বিশেষ প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম,  বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও উত্তেজিত জনতার মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ছোঁড়া গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেডে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘ সময় পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা গভীর রাত পর্যন্ত বজায় ছিল বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় তিন থেকে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনির নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত মনিরকে গণপিটুনি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার অবস্থান করা ভবনটি ঘেরাও করে।

খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মনিরকে হেফাজতে নেয়। তবে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। উত্তেজিত জনতা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা না রেখে অভিযুক্তকে সরাসরি তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়।

অবরুদ্ধ পুলিশ ও দফায় দফায় সংঘর্ষ

বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্তকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় একটি মাদ্রাসা ভবনে নিয়ে গেলে জনতা সেই ভবনটিও অবরুদ্ধ করে ফেলে। ভবনের জানালার কাচ এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।

রাত ১০টার দিকে বিক্ষোভ আরও চরম আকার ধারণ করে। উত্তেজিত জনতা সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং শটগানের গুলি ছোঁড়ে। এই সংঘর্ষের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সংবাদকর্মীসহ অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন।

প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফয়সাল গণমাধ্যমকে বলেন:

“উত্তেজিত জনতার ক্ষোভ যৌক্তিক হলেও আমরা কোনো আসামিকে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া জনতার হাতে সঁপে দিতে পারি না। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তার জন্য র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) একটি বড় দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। যৌথ বাহিনীর দীর্ঘ প্রচেষ্টায় গভীর রাতে পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অভিযুক্তকে কঠোর নিরাপত্তায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

শিশুটির বর্তমান অবস্থা

ভুক্তভোগী শিশুটিকে ঘটনার পরপরই উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনার পর থেকে পুরো বাকলিয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।