বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি, স্টেশন রোড ও রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক, চোরাচালান ও জুয়ার সিন্ডিকেট। সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির অসাধু কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদে এই এলাকাগুলো এখন অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিন শতাধিক পাইকারি ও খুচরা মাদকেকে আসর বসে চলে একাধিক জুয়ার আসারও । এসব স্পটে প্রতিদিন অন্তত ৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থ লেনদেন হয় মাদক, জুয়া ও চোরাকারবার এ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজউদ্দিন বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন ও স্টেশন রোড সংলগ্ন আবাসিক হোটেলগুলো ও জুবলী রোড এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালানের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি থানার ফাঁড়ি ইনচার্জের কাছে এসব তালিকাভুক্ত অপরাধীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকলেও দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক মাসোহারা বা চাঁদার বিনিময়ে তাদের মাদক, জুয়া ও চোরা চালানকারীদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের তীর সরাসরি ফাঁড়ির দায়িত্বরত কতিপয় কর্মকর্তার দিকে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির এ এস আই হারুন প্রতিটি মাদক স্পট থেকে প্রতিদিন সকালে ২ হাজার ও সন্ধ্যায় ২ হাজার টাকা (মোট ৪ হাজার টাকা) হারে চাঁদা আদায় করেন। অন্যদিকে, ৭ নম্বর পার্কিং ও গোয়ালপাড়া এলাকার খুচরা মাদক কারবারিদের নিকট থেকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা ও পাইকারি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এএসআই রিদওয়ান প্রতি মাসে ৫০ হাজার থেকে এক লক্ষ মাসোহারা তোলেন। এভাবে শুধু সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির নামেই প্রতি মাসে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় হচ্ছে।
তবে এই বিশাল অঙ্কের অনৈতিক লেনদেন ও অপরাধের বিষয়ে জানতে চাইলে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজান বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
এদিকে, সিআরবি ফাঁড়ির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ফাঁড়ির কর্মকর্তাদের অনেকেই নিজেরা মাদকাসক্ত। মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যদের দিয়ে কখনোই এলাকা মাদক মুক্ত করা সম্ভব নয়। তাই সিআরবি ফাঁড়ির সকল কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যের দ্রুত ‘ডোপ টেস্ট’ করানোর জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। ডোপ টেস্টে সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের অনতিবিলম্বে চাকরি থেকে অব্যাহতি ও কঠোর শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান এলাকার সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী অবস্থান বদলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা বিভিন্ন অপকর্ম প্রশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ও নিষিদ্ধঘোষিত বিভিন্ন গোষ্ঠীকে দেশবিরোধী তৎপরতা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছেন।
এ অবস্থায় সিআরবি ও সংলগ্ন এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আকুল আবেদন জানিয়েছেন সর্বস্তরের জনগণ। সম্প্রতি কোতোয়ালী থানায় যোগদানকারী নতুন অফিসার ইনচার্জের (ওসি) বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এবং এলাকা থেকে মাদক ও চোরাচালান চিরতরে বন্ধ হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সিআরবিবাসীর।

