back to top

মাদক স্পটে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, কোটি টাকার সম্পদের দাবি—বহাল তবিয়তে ডিবির এস আই ইমাম!

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০১

মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য, গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে টাকা দেওয়ার অভিযোগ; ডোপ টেস্ট ও সম্পদের অনুসন্ধান চান অভিযোগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীতে অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা পুলিশের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই উঠেছে গুরুতর সব অভিযোগ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বন্দর-৫২ টিমে কর্মরত এস আই ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য, অভিযান-পরবর্তী অর্থ লেনদেন, গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণের অভিযোগ তুলে ডোপ টেস্টের দাবিও জানানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়ায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।

মাদক স্পটে অভিযান, এরপর অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

এসআই ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং অভিযানের পর অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন মাদক স্পটে অভিযান পরিচালনার পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর নির্ধারিত কর্মপরিধির বাইরে গিয়ে অভিযান পরিচালনা, মাদক কারবারিদের আটক করে পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি অনিয়মের অংশ।

মাদকাসক্তির অভিযোগ, ডোপ টেস্টের দাবি

এসআই ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণের অভিযোগও তুলেছেন বলে দাবি করছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তা উপেক্ষা না করে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত। অভিযোগকারীরা চান, প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁর ডোপ টেস্টের বিষয়টি বিবেচনা করা হোক। পরীক্ষার ফলাফল ও তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের।

কোটি টাকার এফডিআর, ফ্ল্যাট ও সম্পদের অভিযোগ

এসআই ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন নগরীতে চাকরি করার সুবাদে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ উপার্জন করে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার স্থায়ী আমানত বা এফডিআর করেছেন। এ ছাড়া গ্রামের বাড়িতে নামে-বেনামে জমি এবং চট্টগ্রাম নগরীতে একাধিক ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তাঁর সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, জমির দলিল এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ

এসআই ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হলে তা ঠেকানোর চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কিছু তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের প্রস্তুতি চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে প্রতিবেদন প্রকাশ না করা হয়। আরও অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশিত হলে তা সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

২০২১ সালে আদালতের শোকজ: অতীতের ঘটনায় কী ঘটেছিল?

এসআই ইমাম হোসেনকে নিয়ে অতীতে প্রকাশিত সংবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো ২০২১ সালের আগস্টে আদালতের কারণ দর্শানোর নির্দেশ। ১৮ আগস্ট ২০২১ তারিখে সমকাল ও প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির না করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এ ঘটনায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের এস আই ইমাম হোসেনের নামও প্রতিবেদনে আসে। (সমকাল) সূত্র: সমকাল—চট্টগ্রামে ডিবির এসআইকে শোকজ, ওসির ব্যাখ্যা তলব

২০২৬ সালে বদলি নিয়ে বিতর্ক:

২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাংলা এডিশনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সিএমপির কয়েকজন এসআইয়ের বদলি নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিবেদনে এসআই ইমাম হোসেনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাঁর বদলি ও পরবর্তী পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সূত্র: বাংলা এডিশনের প্রতিবেদন

নিষিদ্ধ সংগঠনকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ:

এসআই ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের মদদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন।